মেনু নির্বাচন করুন

ছবি
শিরোনাম
৫নং দামিহা ইউনিয়ন পরিষদ
বিস্তারিত

         ইতিহাসের পাতা থেকে দেখা যায় বর্তমান তাড়াইল (বর্তমান উপজেলা কমপ্লেক্স) জন্মের কয়েকশত বছর পূর্বে দামিহা বাজারের অস্থিত্ব পাওয়া যায়। হাওড়-বাওড়, বিল-ঝিল ফুলেশ্বরী বর্তমানে প্রবাহমান নরসুন্দা নদীর বিধৌত জারী, সারী, ভাটিয়ালী, বাউলগান ও লোক সাহিত্যে সমৃদ্ধে একটি জনপথ। ১৫১৯ সনে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্ এর মৃত্যু হলে তার সুযোগ্য পুত্র নুসরত শাহ্, নাসির উদ্দিন আবুল মুজাফ্ফর নুসরত শাহ্ নাম নিয়ে বাংলার সিংহাসনে বসেন। নসরতশাহে‌র শাসনামলে অত্র অঞ্চলে প্রশাসনিক অঞ্চল হিসাবে নসরতগঞ্জ বর্তমানে জাওয়ারে অবস্থিত ছিল। তার আমলে নৌঘাটি ছিল চৌগাংগা ধনু, বর্ণী, মগড়া ও ফুলেশ্বরীর সঙ্গম স্থলে। চৌগাংগার ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে দামিহা বাজারটি অবস্থিত। প্রধান নৌঘাটি থেকে সাময়িক সুবিধার জন্য বর্ষকালে দামিহা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফলে অগ্রগামী নৌযানগুলি সেখানে রাখা হত মোঘলদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য। ১৫৩১ সালে নুসরত শাহের মৃত্যু হলে তার পুত্র আলাউদ্দিন ফিরুজ শাহ্ বাংলার সুলতান হন। ১৫৩৩ সালে ফিরুজ শাহকে হত্যা করে গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ নুসরত শাহের ছোট ভাই সিংহাসনে বসেন। শেরশাহ দিল্লি দখল করে মসনদে বসেন এবং বাংলার দিকে অভিযান চালিয়ে বাংলা দখল করেন। গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহ্ পলায়ন করে আত্ম রক্ষা করেন। শেরশাহ তাদের নৌঘাটি চৌগাংগা ধ্বংস করে দেয়ার ফলে দামিহার গুরুত্ব বেড়ে যায়। তখন ব্যবসা বাণিজ্যের দিকদিয়ে গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার ফলে স্থানীয় লোকেরা বলত 'ডামিহা' বা 'দামীহে'। আর এই ‘ডামিহা’ বা ‘দামীহে’ এর উচ্চারণ থেকেই দামিহা নাম লাভ করে। তৎকালীন সময়ে অবস্থানের দিক দিয়ে দামিহা বাজারের অবস্থানটি খুবই দামী বা অবস্থানের প্রাধান্য ফলে দামিহা নামেই পরিচিতি লাভ করে। আসলে বাজরের স্থানটি ছিল নগরকুল গ্রামের গগন মাতাব্বরের। ফলে দামিহা বাজারের কাচারীটি (ভূমি অফিস) এখনও নগরকুল কাচারী (নগরকুল ভূমি অফিস) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে আসছে। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর ইউনিয়ন কাউন্সিল দামিহা বাজারে স্থাপন করা হয় দামিহা ইউনিয়ন হিসেবে। সেখানে ১৯০৯ সালে বাদলা থেকে থানা স্থানান্তরিত করা হয় এবং তাড়াইল থানার আত্মপ্রকাশ ঘটে। অস্থায়ীভাবে দামিহা উমেশ চৌধুরীর বাড়ীতে প্রশাসনিক কাজকর্ম চলে। দামিহা বাজারের নদীর উত্তর পাড়ে পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল যে স্থানটিতে, আজ সেস্থানটি থানাহাটি নামে পরিচিত। এই স্থানটিতে তৎকালীন সময়ে নৌকা ছিল জনগণের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। শুকনামৌসুমে জনগণ ক্ষেতের আইল দিয়ে যাতায়াত করতো। যাতায়াতের অসুবিধার ফলে থানাহাটি থেকে থানা তাড়াইল বাজারের উত্তর পার্শ্বে স্থানান্তরিত করা হয়।

                 ব্যবসা বাণ্যিজের দিক দিয়ে দামিহা বাজারটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল। সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতি এবং রবিবারে হাট বসতো। কৃষকদের মৌসুমী ফসল যেমন ধান, পাট, সব্জি, তিল, তামাকের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। দামিহা বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে বটগাছটি কালের অস্থিত্ব বহন করছে। বাজারের মধ্যস্থলে কাঠালী বট গাছটি এখন আর নেই। এ কাঠালী বট গাছটির নীচে বসতো স্থানীয় তাতীদের বুনা শাড়ী, লুঙ্গি ও গামছার হাট। বাজারের উত্তর পার্শ্বে ছিল কুলুদের বসবাস। তারা সারা বছরই গৃহস্থের সরিষা, তিল, ঘানি দিয়ে তৈল বাহির করতো। বর্তমানে এ পেশাটির অস্থিত্ব আর নেই।

          দামিহা বাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাচারীটিই (বর্তমানে নগরকুল ভূমিঅফিসটি) প্রথম। এরপর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্মাণ করা হয় পাকা দালান। উক্ত দালানটিতে যায়গা সংকুলান না হওয়ার ফলে বর্তমান স্থানে নগরকুল ভূমি অফিস বিদ্যমান এবং ইউনিয়ন পরিষদের নতুন কমপ্লেক্স তৈরী করায় সেখান থেকে ২৮/১০/২০০৭ খ্রিঃ তারিখে অফিস স্থানান্তর করা হয়।

গ্রাম ও জনসংখ্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিবরণঃ

প্রাচীন স্থাপনা ও লোকজ ঐতিহ্যঃ

             প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে দামিহা চৌধুরী বাড়ীর জাফরান ইটদ্বারা নির্মিত এলপ্যাটেনে নির্মিত কারুকার্য মন্ডিত দালান এখন প্রাচীর ঐতিহ্যের স্বাক্ষী বহন করছে। এই দালানটিতে ছিল জমিদারের বসত কক্ষ। রঙ মহল ও নাচ মহল। দীর্ঘকাল ব্যবহার না করায় বর্তমানে ছামচিকা ও বিষধর নাগের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে। এখন আর কেহ সেখানে ভয়ে যেতে চায় না। দামিহা বাজারের পূর্বপার্শ্বে ছিল ঐতিহ্যবাহী দামিহা কালীবাড়ী। বার মাসের তের পার্বনে বিভিন্ন উৎসবে মেতে উঠিত এই কালীবাড়ী। এখানেও একটি বটবৃক্ষ আছে। এ গাছটির নীচে আষাঢ়ে ঝুলন মেলা, শারদীয় দুর্গা পূজায় গ্রাম্যযাত্রার প্রতিযোগিতা হতো। সাংস্কৃতিক বিকাশে......